07/08/2026
চোখের গুনাহ নামাজের সিজদায় গেলেও ভাসে!
চোখের পাপ (হারাম দৃষ্টি) এমনভাবে হৃদয়ে দাগ ফেলে যে, অনেক সময় নামাজের সিজদায়ও সেই দৃশ্য মনে ভেসে ওঠে। ফলে খুশু-খুজু নষ্ট হয় এবং নামাজের প্রশান্তি কমে যায়।
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, চোখের যিনা হলো হারামের দিকে দৃষ্টি। (সহীহ মুসলিম) আর আল্লাহ তাআলা বলেন, মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে... (সূরা নূর: ৩০)। একই নির্দেশ মুমিন নারীদের জন্যও রয়েছে (সূরা নূর: ৩১)।
একইভাবে মহিলাদের জন্যও (সূরা নূর: ৩১)। হারাম দৃষ্টি (নন-মাহরামের সৌন্দর্য দেখা, অশ্লীল ছবি/ভিডিও) চোখের যিনা, যা হৃদয়কে কলুষিত করে এবং বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।
এ গুনাহ থেকে বাঁচার ৩টি গুরুত্বপূর্ণ আমল:
১. দৃষ্টি নত রাখুন।
অনিচ্ছায় হারাম কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে চোখ ফিরিয়ে নিন। ইচ্ছাকৃত দ্বিতীয়বার তাকানো থেকে বিরত থাকুন। অশ্লীল কনটেন্ট, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং ও গুনাহের পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
২. তওবা ও দোয়া করুন।
গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে "আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি" পড়ে আন্তরিক তওবা করুন। পাশাপাশি পড়ুন: "আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শাররি বাসারী।" (হে আল্লাহ! আমি আমার চোখের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।)
৩. নামাজ ও কুরআনের সাথে সম্পর্ক মজবুত করুন।
নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির এবং সম্ভব হলে নফল রোজা হৃদয়কে পবিত্র রাখে ও হারাম দৃষ্টি থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
শেষ কথা: এ গুনাহ থেকে বাঁচলে আল্লাহ হৃদয়ে নূর দান করেন, চোখের মাধ্যমে জান্নাতের পথ সহজ হয়। রাসূল সাঃ বলেছেন, যে আল্লাহর জন্য কিছু ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার জন্য তার চেয়ে উত্তম কিছু দেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে চোখের হেফাজত দান করুন।