26/03/2026
📜 আজ আর্যশ্রেষ্ঠ, মর্যাদাপুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্র-এর আবির্ভাব তিথি 🙏
মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রাম ক্রেতাযুগে এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ গুণাবলী ও দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি একজন আদর্শ সন্তান, আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা—সর্বোপরি একজন আদর্শ রাজা।
যার কাছ থেকে আমরা ধর্মের দশটি লক্ষণ—
ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয় নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্যম্, অক্রোধ—
এই সমস্ত গুণ শিখতে পারি। ✨
📖 রামায়ণে রামের সদগুণ বিষয়ে বলা হয়েছে
• ক্ষমা য়স্মিং স্তপস্ত্যাগঃ সত্যং ধর্ম কৃতজ্ঞতা।
অপ্যহিংসা চ ভূতানাং তমৃতে কা গতির্মম ॥
(বা০ রা০ অযো০ ১২/৩৩)
দশরথ বললেন—
হে কৈকেয়ী! যে রামের মধ্যে ক্ষমা, তপ, ত্যাগ, সত্য, ধর্ম ও কৃতজ্ঞতা এবং সর্বপ্রাণীদের জন্য দয়া বর্তমান, সেই রাম ব্যতিরেকে আমার কী গতি হবে?
📖 রামের শাসন ও তাঁর রাজ্যের চিত্র
• ন পর্যদেবেন বিধবা ন চ ব্যালকৃতং ভয়ম।
ন ব্যধিজং ভয়ং চাসীদ রামে রাজ্যং প্রশাসতি ॥
নির্দস্যুরভবল্লোকো নানর্থং কশ্চিদস্পৃশৎ।
ন চ স্ম বৃদ্ধা বালানাং প্রেতকার্যানি কুর্বতে ॥
সর্ব মুদিতমেবাসীৎ সর্বো ধর্মপরোহভবৎ।
রামমেবানুপশ্যন্তো নাভ্যহিংসন্ পরস্পরম্ ॥
আসন্ বর্ষসহস্রানি ততা পুত্র সহশ্রিনঃ।
নিরাময়া বিশোকাশ রামে রাজ্যং প্রশাসতি ॥
(বা০ রা০ যুদ্ধ০ ১২৮/৯৮-১০১)
👉 রামের শাসনকালে—
বিধবাদের ক্রন্দন ছিল না, হিংস্র প্রাণীর ভয় ছিল না, রোগের কষ্ট ছিল না।
প্রজাগণ চোর-ডাকাতের ভয়মুক্ত ছিল, কেউ কারো অনর্থ করতো না।
বৃদ্ধদের সামনে শিশুদের মৃত্যু হতো না।
সবাই সুখী, ধর্মপরায়ণ এবং পরস্পরের প্রতি অহিংস ছিল।
👉 রাষ্ট্রে যেসব অনর্থ দেখা যায়—
বিধবার বৃদ্ধি, ভয়, চুরি, রোগ, বাল্যমৃত্যু, বিবাদ—
এসবই নেতার অনুচিত শাসনের ফল।
📚 কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু তথাকথিত “প্রগতিশীল” ব্যক্তি বলেন—
রাম বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নন, তিনি বহিরাগত!
কিন্তু—
বাঙালির সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজা—
কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুযায়ী রামই প্রথম সূচনা করেছিলেন।
এছাড়া—
ত্রয়োদশ শতকের কৃত্তিবাস ওঝা-র রামায়ণ এবং
দশম শতকের সন্ধ্যাকর নন্দী-র রামচরিতম—
সবই বাংলার ঐতিহ্যের অংশ।
👉 তাই শ্রী রাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এক অবিচ্ছেদ্য স্থান অধিকার করে আছেন।
🎼 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ভাষায়—
"ভগবন ত্রিভুবন, তোমাদের প্রত্যক্ষ বিরাজে
কহ মোরে কার নাম অমর বীণার ছন্দে বাজে।
কহ মোরে বীর্য কার ক্ষমার করে না অতিক্রম
কাহার চরিত্র ঘেরি সুকঠিন ধর্মের নিয়ম
ধরেছে সুন্দর কান্তি মানিক্যের অঙ্গদের মতো,
মহৈশ্বর্যে আছে নম্র, মহাদৈন্যে কে হয়নি নত,
সম্পদকে থাকে ভয়ে, বিপদে কে একান্ত নির্ভীক,
কে পেয়েছে সবচেয়ে, কে দিয়েছে তাহার অধিক,
কে লয়েছে নিজ শিরে রাজভালে মুকুটের সম
সবিনয়ে সগৌরবে ধরাধামে দুঃখ মহত্তম,
কহ মোরে সর্বদর্শী হে দেবর্ষি তাঁর পূণ্য নাম
নারদ কহিলা ধীরে, অযোধ্যার রঘুপতি রাম!"
🌿 পরিশেষে
যতকাল এই ধরণীতে পর্বত দাড়িয়ে থাকবে আর নদীর ধারা প্রবাহমান থাকবে,
ততকাল শ্রী রামের রামায়ণকথা প্রচারিত হবে।
📖 বাল্মিকী রামায়ণ, আদিকাণ্ড ২/৩৬ ✨
#শ্রীরাম #রামনবমী