20/05/2026
🔰 বেদে ইন্দ্রকে কেন কৌশিক বলা হয়েছে?
আ তু ন ইন্দ্র কৌশিক মন্দসানঃ সুতং পিব। নব্যমায়ুঃ প্র সূ তির কৃধি সহস্রসামৃষিম্।। ঋগ্বেদ (১/১০/১১)
পদার্থঃ হে (কৌশিক) সকল বিদ্যার উপদেশক এবং সেসব উপদেশ অর্থসমূহকে নিরন্তর প্রকাশক (ইন্দ্র) সর্বানন্দস্বরূপ পরমেশ্বর, (মন্দসানঃ) আপনি উত্তম-উত্তম স্তুতিগুলোকে প্রাপ্ত হয়ে এবং সমস্ত কিছুকে যথাযথভাবে অবগত হওয়ার মাধ্যমে (নঃ) আমাদের [নিকট হতে] (সুতম্) যত্নপূর্বক উৎপাদিত প্রিয়শব্দ এবং স্তুতিসমূহকে (আ) উত্তমরূপে (পিব) শ্রবণ করুন (তু) এবং আমাদের জন্য কৃপাপূর্বক (নব্যম্) নবীন (আয়ুঃ) জীবনকে (প্র সূ তির) উৎকৃষ্টরূপে নিরন্তর প্রদান করুন। তথা (নঃ) আমাদের মাঝে (সহস্রসাম্) অসংখ্য বিদ্যার প্রকাশক (ঋষিম্) বেদবক্তা পুরুষকেও (কৃধি) উৎপন্ন করুন।।
~ মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীকৃত ভাষ্য
এখানে ইন্দ্রকে “কৌশিক” বলা হয়েছে। মহর্ষি “ইন্দ্র” শব্দের অর্থ করেছেন পরমেশ্বর, এবং “কৌশিক” শব্দের অর্থ করেছেন নিরুক্তের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী— ক্রোশতেঃ শব্দকর্মণঃ ক্রংশতের্বা স্যাৎ প্রকাশয়তিকর্মণঃ, সাধু বিক্রেশয়িতাঽর্থানামিতি বা।" (নিরুক্ত ২/৮৪) বা (নিরুক্ত ২/২৫/১৩)
অর্থাৎ— “যিনি সমস্ত বিদ্যার উপদেশক, প্রকাশক এবং অর্থসমূহের উত্তমরূপে উপদেশদাতা।”
এই অর্থ পরমেশ্বরের ক্ষেত্রেই যথাযথভাবে প্রযোজ্য।
কিন্তু সায়ণাচার্য ইন্দ্রকে একটি বিশেষ দেবতা বলে মানেন এবং “কৌশিক” শব্দের প্রচলিত অর্থ বলে গ্রহণ করেন। ফলে তাঁর সামনে এই সমস্যা উপস্থিত হয় যে, ইন্দ্রকে “কৌশিক” বলা হলো কীভাবে?
এর সমাধানে তিনি ঋক্-সর্বানুক্রমণীর ইঙ্গিত অনুসরণ করে বলেন যে, কুশিক ইন্দ্রের সদৃশ পুত্র লাভের জন্য ব্রহ্মচর্য পালন করেছিলেন। তখন স্বয়ং ইন্দ্রই বিশ্বামিত্ররূপে তাঁর গৃহে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই কারণে ইন্দ্রকে “কৌশিক” বলা হয়েছে।।
~ লেখকঃ ড. রামনাথ বেদালংকার ( বেদভাষ্যকারদের বেদার্থপ্রক্রিয়া পৃষ্ঠা ১৪১-১৪২)
🕉️ কুশিক শব্দের তিনটি অর্থ নিরুক্ত অনুযায়ী। অমরেশ্বর ঠাকুরের নিরুক্ত (২.২৫.১৩) থেকে -
১. যিনি বিহিত কর্মের অনুষ্ঠান করেন এবং প্রতিষিদ্ধ কর্মের অনুষ্ঠান করিও না - এইপ্রকার উপদেশ যিনি করেন তিনিই কুশিক।
২. যিনি নিজেকে নিজে প্রকাশ করেন অর্থাৎ যিনি বিখ্যাত অথবা যিনি ধর্মের প্রকাশক তিনি কুশিক।
৩. যিনি ব্রাহ্মণাদি সাধুজনকে নানাবিধ অর্থদান করেন তিনি কুশিক।
নমস্কার।।