24/11/2025
অনেকেই প্রচার করে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে নারীদের ঘরবন্দী করে ফেলবে। এইটা এমন একটা ন্যারেটিভ যার সাথে সত্যের ন্যুনতম কোনো সম্পর্ক নাই। এটা বরং একটা জুজু, এই জুজু ব্যবহার করে জামায়াতকে একটা ‘নারীবিদ্বেষী’ গোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই নারীদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছে। জামায়াতে ইসলামী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। তাদের জন্য নিরাপদ সমাজ বানাতে চায়। সেই নিরাপত্তাটি কেমন? আসুন, রাসূলের (সা.) একটি হাদীস পড়ে আসি।
আদী ইবনু হাতিম রা. থেকে বর্ণিত, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আদী! তুমি কি হীরা নামক স্থানটি দেখেছ! আমি বললাম, দেখি নাই, তবে স্থানটি আমার জানা আছে। তিনি বললেন, তুমি যদি দীর্ঘজীবী হও তবে দেখবে একজন উষ্ট্রারোহী হাওদানশীল মহিলা হীরা হতে রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহ শরীফে তাওয়াফ করে যাবে। আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না।”
“আদী (রাঃ) বলেন, আমি নিজে দেখেছি, এক উষ্ট্রারোহী মহিলা হীরা হতে একাকী রওয়ানা হয়ে কা’বাহ্ শরীফ তাওয়াফ করেছে। সে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকেও ভয় করে না।” [বুখারী: ৩৫৯৫]
রাসূল (সা.) এমন একটি সমাজব্যবস্থার ভিত তৈরি করে গেছিলেন, যেই সমাজে নারীরা এত নিরাপদ হবে যে, একজন নারী একাকী হীরা থেকে মক্কায় (প্রায় ১৮০০+ কিলোমিটার) ভ্রমণ করবে, কিন্তু একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে তার ভয় পেতে হবে না। আর এরকম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। আদী (রা.) সেই সমাজটি দেখে যেতে পেরেছিলেন (উমার রা. এর সময়ে) যা তিনি হাদীসের পরের অংশে উল্লেখ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী রাসূল (সা.) এর হাদীসে বর্ণিত এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। যেখানে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি জনপদ নারীর জন্য নিরাপদ হবে। একজন নারী শত শত কিলোমিটার একাকী ভ্রমণ করলেও তাকে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পেতে হবে না। নারীর জন্য এমন একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করে, সামনেও করবে।
জামায়াতে ইসলামীর নারীর প্রতি বার্তা–
“ঘরে কিংবা বাহিরে, নারী হবে নিরাপদ
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, দাঁড়িপাল্লার শপথ।”
Copy- asif ahmad