10/01/2022
#ভগবান_বুদ্ধের_প্রধান_চিকিৎসক_জীবক
দশ পর্বের লেখা
এক সময় পঞ্চবিধ জটিল-রোগ প্রাদুর্ভূত হয়েছিলো মগধরাজ্যে। যথা- কুষ্ঠ, শ্বেতকুষ্ঠ, গণ্ড, যক্ষ্ণা ও উম্মত্ততা। এসব রোগাক্রান- ব্যক্তিরা জীবকের নিকট এসে অনুরোধ করলো- ‘বৈদ্য মহাশয়, আমাদের ব্যাধিমুক্ত করুন।’
তখন জীবক অতিশয় ব্যস- ছিলেন চিকিৎসাকার্য্যে। তাই বললেন- ‘আমার অনেক কাজ, মোটেই অবসর নেই। মহারাজ বিম্বিসার, রাজান্তঃপুরবাসী, বুদ্ধ ও ভিক্ষুদের চিকিৎসাকাজে এখন আমি খুব ব্যস-। এসব সম্পাদন করতে সময়ের সঙ্কুলান হয় না, আপনাদের চিকিৎসা কখন করি বলুন; তা’সম্ভব হবে না।’
পুনরায় তারা এ বলে কাতর অনুরোধ করলো- ‘বৈদ্য মহাশয়, আমাদের সমস্ত সম্পদ আপনাকে দিচ্ছি, আমরাও চিরকাল দাস হয়ে থাক্বো আপনার, সানুনয় প্রার্থনা করছি- আমাদের রোগমুক্ত করুন।’
‘বলছি তো সময় নেই, আমি পারবো না।’
তখন রোগীরা হতাশ হয়ে চিন্তা করলো- ‘ভিক্ষুরা দেখছি সব দিক দিয়েই সুখী। ভোজন-শয়ন সুখেই চলছে; রাজবৈদ্যের চিকিৎসাও চলছে অনায়াছে। আমারাও ভিক্ষু হলে, জীবক তখন চিকিৎসা করবেন আমাদের।’
অচিরে ভিক্ষুত্বে দীক্ষা নিলো ব্যাধিগ্রস- ব্যক্তিগণ। ভিক্ষুদের পরিচর্য্যা ও জীবকের চিকিৎসায় সহসা রোগমুক্ত হলো তারা। তা’শুনে দলে দলে রোগাক্রান- ব্যক্তিরা ভিক্ষুত্ব বরণ করে নিলো এবং সত্বর রোগমুক্ত হলো। রুগ্ন ভিক্ষুদের চিকিৎসায় জীবক এতদূর ব্যস- হয়ে পড়লেন যে, রাজপুরীর চিকিৎসা ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।
রোগারোগ্য- মানসে যারা গ্রহণ করেছিলো ভিক্ষুধর্ম, আরোগ্য লাভ করে, তা’দের অনেকেই ভিক্ষুত্ব ত্যাগ করে গৃহে প্রত্যাবর্তন করলো। তা’দের অবস্থান-র দেখে জীবক জিজ্ঞাসা করলেন- ‘আপনারা ধর্মজীবন ত্যাগ করলেন কেন?’
তারা উত্তর করলো- ‘আমরা রোগমুক্ত হয়েছি, আর আমাদের ধর্মের প্রয়োজন নেই।’
জীবক একথা শুনে বড়ো দুঃখিত হলেন। তিনি ভগবানকে একথা জানিয়ে অনুরোধ করলেন- ‘ভগবন, এরূপ রোগাক্রান- ব্যক্তিকে সুগত-শাসনে প্রবেশের অধিকার না দিলেই ভালো হয়।’
জীবক চলে যাওয়ার পর তথাগত ভিক্ষুগণকে আহ্বান করে এরূপ আদেশ ঘোষণা করলেন- ‘ভিক্ষুগণ, কুষ্ঠ, শ্বেতকুষ্ঠ, গণ্ড, যক্ষ্ণা ও উম্মত্ততা এ পঞ্চবিধ রোগাক্রান- ব্যক্তিকে প্রব্রজ্যা বা উপসম্পদা প্রদান করবে না। যে করবে, তার হবে ‘দুষ্কৃত’ অপরাধ।’
চলবে......