30/12/2020
কিছু কথা না বললেই নয়!!
চট্টগ্রাম শহরে (বর্তমানে পটিয়াতেও) দেখা যায় সিটি কর্পোরেশন এই রাস্তার কাজ করে গেল ওয়াশা এসে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করল, এটা হওয়ার একমাত্র কারণ আমি মনে করি "জবাবদিহিতা"।
কোনো কিছু জবাবদিহিতা না থাকলে যে যেমন খুশি তেমনই করে।
কথাটা কেন বলছি এখানে?? সম্প্রতি সময়ে দেখা যাচ্ছে কতিপয় স্বার্থান্বেষী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আমাদের ধর্মকে যেমন খুশি তেমন ভাবেই ব্যবহার করছে শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তি স্বার্থ লাভের জন্য। শুধুমাত্র জবাবদিহিতা নেই বলে...
আজকে সারাদেশে সনাতন ধর্মের এই পরিস্থিতি হওয়ার পেছনে দায়ী কে বলে মনে হয় আপনাদের?? জঙ্গীগোষ্ঠী?? ধর্মান্ধ ইসলাম সম্প্রদায়?? না মোটেও না!! এর জন্য একমাত্র দায়ী এই স্বার্থান্বেষী মহল!! আজ এদের কারণেই আমাদের ভিত্তিটা এতো দুর্বল বলে বাকিরা মনে করে।
দু-একটা ঘটনা উল্লেখ করেই সবকিছু একটু টু দ্যা পয়েন্ট আলোচনা করার চেষ্টা যদি আমি করি তবে- কিছুদিন আগে বিভিন্ন সনাতনী গ্রুপে সীতাকুণ্ডে বিধর্মীদের অত্যাচার এবং ময়লা আবর্জনা নিয়ে যে স্ট্যাটাস গুলো ভেসে আসছিল তার প্রধান কারণ কিন্তু আমরাই, উদাহরণ হিসেবে -আপনি আপনার দোকানে বসেই গান শুনছিলেন সাথে ছিল আপনার এক মুসলিম বন্ধু, যেই মাত্র আজান পড়ল আপনার বন্ধু বলল গান বন্ধ করে দিতে, আপনিও বন্ধুর মন রক্ষার্থে তাই করলেন, এটা একজন না সব মুসলিম, সুতরাং এই পরিবেশ টা আমরা তৈরি করিনি, ওরা করিয়ে নিয়েছে, ১৫জন মুসলিম যেখানে উঠছে সেখানে নিশ্চয় ৫০জন হিন্দু ছিল। কই কেউ বলেছে এখানে বিশৃঙ্খলা করবেন না, ময়লা ফেলবেন না, হ্যা এটা একজন বললে হবে না? একদিন বললে হবে না, রীতি বা প্রথা একদিনে গড়ে উঠে না।
আরও একটা বিষয় খেয়াল করবেন- ওরা ধর্মের জায়গায় সবাই এক এবং আপোষহীন, অথচ গোপন সংবাদে জানতে পারলাম সীতাকুণ্ডে প্রাক্তন কমিটি নাকি কারা ক্ষমতার দাপটে খোদ ধর্মের জায়গায় বেচে দেয়ার পায়তারা করছে, সুতরাং দায়ী কে??
এবার আসুন ২৫শে ডিসেম্বর এর কথায়, ফেসবুকের কল্যাণে জানতে পারলাম রামকৃষ্ণ মিশনে যীশু খ্রীষ্টের পূজা করা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট পুজা প্রণাম মন্ত্র সহকারে। ব্যাপার টা অনেকের কাছে গর্ভের সেকুলারিজমের! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটা পুরোটাই কান্ডজ্ঞানহীন চাটুকারিতার, কেননা সকল ধর্মকে সম্মান করতে বলা হয়েছে, পূজা করতে না, আপনি ইসলামের পুজা করতে পারবেন?? যেখানে খ্রিস্টানরা নিজেরাই এই মন্ত্রসহকারে পূজা করেনা তাহলে আমরা কোন ব্রাহ্মীয়, শাস্ত্রীয়, মার্রকেন্ডীয় পুস্তকে এই মন্ত্র সৃজন করে পূজা করে নিজেদেরকেই হাসির পাত্র বানাচ্ছি?? কিছু কিছু জায়গায় স্বার্থপর হওয়ার বরং আত্মসম্মানের, আপনার ধর্মকে আপনি এককভাবে ভালোবাসবেন পূজা করবেন, সেখানে অন্য ধর্ম নিয়ে এসব পূজা অর্চনা নিছক নিজ ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ছাড়া কিছু না। আমাদের ধর্ম নিয়ে ঠিক এরকম কারণেই সবাই যা ইচ্ছে তাই বলার সুযোগ পায়,পাচ্ছে। যেখানে আমরা নিজেরাই বিচিত্র আচরণ করি সেখানে বাকিরা বিচিত্র কথা বলতেই পারে..
এবার আসুন স্বার্থান্বেষী মহলের কথায়, কয়েকদিন যাবৎ দেখলাম পটিয়ার বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে করোনা আক্রান্ত পটিয়ার এম পি সাহেব কে নিয়ে বিশেষ প্রার্থনা সহ বিভিন্ন আয়োজন!! ভাবা যায় লেইম কাজ এগুলা?? হ্যাঁ এরও কারণ আছে, এসব কারা করছে?? আমি, আপনি?? নাহ!! এরাই আমাদের সনাতন ধর্মের নীতি নির্ধারক!! রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব নৈতিকতা বর্জিত সমাজ!! এনারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল, এম পি সাহেবের বিশেষ নজরে আসা, খুশি রাখার প্রচেষ্টায় রত!! এই আমরাই সেই জাতি যারা নিজের ধর্মটাকেও বেচে দিয়ে ফায়দা লুটতে চাচ্ছি!! কই কোনো মসজিদে,কোনো প্যাগোডায় কোথাও দেখেছেন এই বিশেষ প্রার্থনা?? তাহলে আমাদের ধর্ম কে নিয়ে খেলতেছে এগুলা নিশ্চয়ই বাইরের কেউ না?? শুধু মাত্র করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছে তাই হিন্দু নেতাদের জান বাহির হয়ে যাচ্ছে, যদি আই সি ইউ তে থাকতো তাহলে না জানি মন্দিরগুলো নিয়ে উনারা হাসপাতালে চলে যেতো কিনা!! ভগবান না করুক আমাদের প্রধানমন্ত্রী করোনা আক্রান্ত না হোক, না হলে এই ভাইগুলা কৈলাস অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে যাতে সামনে একটা বড় পদ পায়!!
তাহলে ভেবে দেখুন কারা আজ কালপ্রিট!! কারাই আমাদের ধর্মের জন্য হুমকি!!
কই উনারা তো তখন মন্দিরে সংঘবদ্ধ হয়ে যায় না যখন কোনো মন্দির ভাঙচুর হয়,যায় না জায়গা রক্ষা করতে যখন মন্দিরের জায়গা দখল হয়!! এখন কেন আমাদের মন্দির গুলোকে এভাবে ব্যবহার করবে??
সুরঞ্জিত সেনের জন্য কয়টা মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়েছিল?? এই যে আপনারা এসব করছেন আপনার জন্য কয়টা মসজিদে দোয়া মাহফিল হবে?? তাহলে আপনি কেন আপনার ধর্ম কে অপবিত্র করবেন??
আপনাদের জন্যই কি আজ সনাতন ধর্মের এই অবস্থা নয় বলে মনে হয়??
কে উত্তর দিবে??