02/02/2026
শবে বরাতের আমল ও ফযিলত:
নবিজী ﷺ'র ৯টি হাদিস
(এক)
হযরত আলি রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন—
– যখন শাবানের ১৫তম রাত (শবে বরাত) আসে, তখন তোমরা সে রাতে ইবাদতের জন্য দাঁড়াও এবং দিনে রোজা রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লী বর্ষণ করেন এবং বলেন,
– কে আছ ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কে আছ রিজিক প্রার্থনাকারী? আমি তাকে রিজিক দেব। কে আছ বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে মুক্তি দেব।’ সূর্য ওঠা পর্যন্ত এভাবে ঘোষণা করতে থাকেন। [১]
(দুই)
মুমিনদের আম্মাজান হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
– ‘আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ কে দেখলাম না। পরে জান্নাতুল বাকী'র কবরস্থানে পেলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন,
– তুমি কি আশঙ্কা করেছিলে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমার ওপর জুলুম করবেন?
– হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধারণা করেছিলাম আপনি হয়তো অন্য বিবির ঘরে গেছেন।’ অতঃপর তিনি বললেন,
– নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শাবানের ১৫তম রাতে প্রথম আসমানে তাজাল্লি নাযিল করেন এবং বনি কালব গোত্রের ছাগলের পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি গুনাহগারকে ক্ষমা করে দেন। [২]
(তিন)
হযরত আবু মূসা আশ‘আরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবিজী ﷺ বলেন,
– আল্লাহ তাআলা শাবানের পনেরোতম রাতে সমগ্র পৃথিবীর অধিবাসীদের ক্ষমা করে দেন, কেবল কাফির ও পরস্পর শত্রুতা পোষণকারী ছাড়া। [৩]
(চার)
হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন,
– হে আয়িশা! এটি শাবানের ১৫তম রাত।
আল্লাহ তাআলা এ রাতে অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। কিন্তু কাফির। শত্রুতা পোষণকারী। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী। টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী। পিতা-মাতার অবাধ্য এবং মদে অভ্যস্তদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না। [৪]
(পাঁচ)
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন,
– ছয় প্রকার ব্যক্তি এমন রয়েছে, যাদের এ রাতেও ক্ষমা করা হয় না, তারা হল
১. মদ্যপানে অভ্যস্ত।
২. পিতা-মাতার অবাধ্য।
৩. ব্যভিচারী।
৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী।
৫. ছবি প্রস্তুতকারী ।
৬. চোগলখোর। [৫]
(ছয়)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,
– পাঁচটি রাত রয়েছে, যেগুলোতে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না— যার মধ্যে একটি হলো শাবানের ১৫তম রাত।” [৬]
(সাত)
হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন,
– আল্লাহ তাআলা চারটি রাতে কল্যাণের দরজা খুলে দেন।
১. কুরবানির ঈদের রাত।
২. ঈদুল ফিতরের রাত।
৩. শাবানের পনেরোতম রাত। এই রাতে মৃত্যু, রিজিক ও হজ পালনকারীদের নাম লিখে দেওয়া হয়।
৪. আরাফার রাত, ফজরের আজান পর্যন্ত। [৭]
(আট)
হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
– আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে শাবানের পনেরোতম রাতে জান্নাতুল বাক্বীতে পেয়েছি। দেখলাম তিনি মুসলমান পুরুষ ও নারী এবং শহীদদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করছেন। [৮]
(নয়)
হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন। নবীজি ﷺ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,
– তুমি কি জানো, শাবানের পনেরোতম রাতে কী ঘটে?
– আমিতো জানি না। আপনিই বলুন ইয়া রাসুলাল্লাহ ﷺ।
– বনী আদামের প্রতিটি লোক যারা এ বছর জন্মগ্রহণ করবে এইরাতে তাদের নাম লেখা হয়।। যাদের মৃত্যু হবে তা নির্ধারিত হয়। বান্দার আমল উপরে উঠানো হয় এবং বান্দার রিজিক নাযিল করা হয়। [৯]
বি.দ্র: শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা মুস্তাহাব। শুধু সম্পূর্ণ রাত জেগে থাকাকে রাত জাগ্রত থাকা বলেনা। বরং রাতের অধিকাংশ সময় জেগে থাকাও রাত জাগ্রত থাকা। [১০]
📗 রেফারেন্স:
___________
[১] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস- ১৩৮৮, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস- ১৩৮৮
[২] সুনানে তিরমিযী: হাদিস- ৭৩৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৯
[৩] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস- ১৩৯০, মিশকাতুল মাসাবিহ: হাদিস- ১৩০৬
[৪] শু‘আবুল ঈমান: ৩/৩৮৪, হাদিস- ৩৮৩৭
[৫] ফাযায়েলুল আওকাত: ১/১৩০, হাদিস: ২৭
[৬] মু‘জামুল আওসাত: হাদিস- ৬৭৭৬, জামে সগীর: হাদিস- ৩৯৫২
[৭] তাফসীরে দুররুল মানসুর: ৭/৪০২
[৮] শু‘আবুল ঈমান: ৩/৩৮৪, হাদিস: ৩৮৩৭
[৯] মিশকাতুল মাসাবিহ: হাদিস- ১৩০৫
[১০] দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৫৬৮ পৃষ্ঠা