20/05/2026
বছরের পর বছর দুআ করে আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া নিয়ামাহ্ ধরে রাখতেও নিয়মিত দুআ করে যেতে হয়।
দুআ করা বন্ধ করে দিলে আমি তার প্রভাব স্পষ্ট টের পাই। যেদিন আল্লাহর কাছে স্কিনের গ্লো চাই না, সেদিন যত কিছুই করি না কেন, নিজেকে ফ্যাকাশে লাগে। পরিবারের শান্তির জন্য প্রতিদিন আন্তরিক দুআ করার প্রয়োজন পড়ে। একদিন দুআ কমে গেলে কিংবা গুনাহ বেড়ে গেলে তার ছাপ পরিবারেও দেখতে পাই। এমনকি দুআ করার তওফিক চেয়েও আল্লাহর কাছে দুআ করতে হয়।
অধিকাংশ মানুষ দুআ কবুল হয়ে যাওয়ার পর সেই কবুলিয়্যাতের স্থায়িত্বের জন্য আর দুআ করে না। নিয়ামাহ্ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে আল্লাহকেই ভুলে বসে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ফলাফল? এতো সবরের পর পাওয়া নিয়ামাহ্ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়, আর সেটাই কষ্টের কারণ হয়!
আমরা অভিযোগ করতে জানি, কিন্তু চাইতে জানি না। কয় রাত আমরা কেঁদে আল্লাহর কাছে সংসারের শান্তি চেয়েছি? বরং একদিন শান্তি পেলেই পরদিন আল্লাহকে ভুলে যাই। দীর্ঘ বছর দুআ করে একটা নেক সন্তান পাওয়ার পর সেই সন্তানকে কেন্দ্র করেই কখনো কখনো হারাম কাজ শুরু হয়ে যায়।
এমন অনেক বোনকে দেখেছি, যারা বিয়ের জন্য একসময় দিনরাত আমল করেছিলো। কিন্তু আল্লাহর নিয়ামতের দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছে। পর্দা শিথিল হয়েছে। তারপর কয়েক মাস বা কয়েক বছর না যেতেই সেই নিয়ামাহ্ হারিয়ে গেছে। প্রশান্তি বিলীন হয়ে গেছে।
আল্লাহর কাছে চাইতে হয়। খুব করে চাইতে হয়। প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্তে চাইতে হয়। চোখের পানি ফেলে চাইতে হয়। না পেলেও চাইতে হয়, পেয়ে গেলেও চাইতে হয়।পাওয়ার আগে দুআ করতে হয়, আর পাওয়ার পর সেই নিয়ামাহ্ হিফাজতের জন্যও দুআ করতে হয়।
যে আল্লাহর কাছে চাইতে জানে, সবর রেখে দুআ করে যেতে জানে, সে হতাশ হয় না।
আমরা হয়তো চাওয়ার মতো করে চাইতে পারি না। অথবা পাওয়ার পর দুআ দিয়ে নিয়ামাহ্ ধরে রাখতে জানি না।
#দুআটিপস