15/03/2025
🕋 মাসজিদুল হারামের তারাবীহর রাকআত সংখ্যা নিয়ে
🕌 বায়তুল মুকাররম খতীবের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ
🔰✍️প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
◼️আমীর, আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ
◼️ প্রফেসর (অবঃ), আরবী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।
🔰🖋️ গত ৮ই মার্চ ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার ১ম পৃষ্ঠায় ‘বায়তুল্লাহ শরীফ ও মসজিদে নববীতে ২০ রাকাত তারাবি পুনর্বহাল করুন-রাজকীয় সউদী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ : জুমার খুৎবা-পূর্ব বয়ান’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের খতীবের মুখ থেকে এ ধরনের অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য কখনো কাম্য নয়। তারা বলেন, ছহীহ হাদীছ দ্বারা তারাবীহ্র ছালাত ৮ রাকআত, ২০ রাকআত নয়। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘রামাযান বা রামাযানের বাইরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রাত্রির ছালাত ১১ রাকআতের বেশী আদায় করেননি (বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮)। হযরত ওমর (রাঃ)ও ১১ রাকআত তারাবীহ জামাআতের সাথে আদায় করার সুন্নাত পুনরায় চালু করেন, ২০ রাকআত নয়। তবে উক্ত বর্ণনার শেষদিকে ইয়াযীদ বিন রূমান প্রমুখাৎ ওমর (রাঃ)-এর যামানায় লোকেরা ২৩ রাকআত তারাবীহ পড়তেন’ বলে যে বাড়তি অংশ যোগ হয়েছে, সেটি মুনক্বাতি বা ছিন্নসূত্র হওয়ায় যঈফ। তিনি হযরত ওমরের যামানা পাননি।
🔰🖋️ উপরন্তু এটি ছহীহ হাদীছ সমূহের বিরোধী (মুওয়াত্ত্বা হা/৩৮০, সনদ যঈফ)। জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রামাযান মাসে আমাদেরকে ৮ রাকআত তারাবীহ ও বিতর ছালাত পড়ান’ (ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/১০৭০)। উপরোক্ত হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম সকলেই ১১ রাকআত তারাবীহতে অভ্যস্ত ছিলেন, কখনই ২০ রাকআত তারাবীহ পড়েননি। সুতরাং মক্বা-মদীনার হারামে ১০ রাকআত কমিয়ে এনে বরং সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করা হয়েছে।
🔰🖋️ অতএব খতীব আব্দুল মালেক ছাহেবের বক্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত।