রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম

  • Home
  • Bangladesh
  • Chilmari
  • রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম

রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম, Religious organisation, রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম, চিলমারি, কুড়িগ্রাম, Chilmari.

শঙ্করের মত গৌরাঙ্গের পথ

স্থাপিত : ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
চিলমারি, কুড়িগ্রাম।

কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ২৬ কি.মি দক্ষিণে চিলমারী উপজেলার রাজারঘাট নামক স্থানে এটি অবস্থিত |
🙏🏻

পুরীর শ্রীমন্দিরে শ্রীজগন্নাথদেবের সাথে , বাংলার শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এবং একমাত্র সদ্গুরু ১০৮ শ্রীমৎ স্বামী নিগমানন্দ সর...
16/07/2026

পুরীর শ্রীমন্দিরে শ্রীজগন্নাথদেবের সাথে , বাংলার শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এবং একমাত্র সদ্গুরু ১০৮ শ্রীমৎ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব পূজিত হন।

জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর ঠাকুর নিগমানন্দের প্রতিষ্ঠিত আসন মন্দির সহসা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই সহজ পথ হল রন্ধনশালার দিকে গিয়ে দক্ষিণ গেটে ঢুকে বামদিকে শেষ মাথায় যেখানে অফিস ঘর লেখা আছে তার ভিতরেই ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ ও ঠাকুর নিগমানন্দের আসন মন্দির ।

জয়গুরুঃ জয় জগন্নাথ 🙏

মন্নাথ শ্রী জগন্নাথ......

collected.

শ্রীশ্রীরথযাত্রা || ঠাকুর শ্রীশ্রী নিগমানন্দ পরমহংসদেব স্নান-যাত্রার উৎসব হইয়া গেলেই শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা। স্না...
16/07/2026

শ্রীশ্রীরথযাত্রা || ঠাকুর শ্রীশ্রী নিগমানন্দ পরমহংসদেব

স্নান-যাত্রার উৎসব হইয়া গেলেই শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা। স্নানের জলে ধৌত হইয়া জ্ঞানের চক্ষু নির্মল হইয়াছে যাঁহার, তিনিই জগন্নাথকে দেহরথে বামনরূপে দর্শন করিয়া থাকেন। জগন্নাথদেবকে শাস্ত্রে বামনরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। অঙ্গুষ্ঠমাত্র এই অন্তরাত্মা পুরুষ সকলজনের হৃদয়ে সন্নিবিষ্ট রহিয়াছেন। যতদিন পর্যন্ত জীবের অন্তর্দৃষ্টি উন্মীলিত না হয়, চিত্ত যতদিন পর্যন্ত বহির্বিষয়ে আসক্ত থাকে, ততদিন বাহিরের রথে আত্মার প্রতীক দর্শন করিতে হয়। কিন্তু দীক্ষাভিষেকে যাঁহার চিত্ত নির্মল ও সাধনায় অন্তশ্চক্ষু প্রস্ফুটিত হইয়াছে, তিনি দেহরথেই বামনরূপী আত্মদর্শন করিয়া থাকেন।

রথে তু বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।

যিনি দেহরথে আত্মস্বরূপ জগন্নাথদেবকে বামনরূপে দর্শন করেন, তাঁহার আর পুনর্জন্ম হয় না। আমরা রথযাত্রার বিবরণ নিম্নে বিবৃত করিতেছি।

"আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা হয়। এই সময় নানাদেশ হইতে বহু যাত্রীর সমাগম হইয়া থাকে। যত রকম উৎসব আছে তাহার মধ্যে রথযাত্রা সর্বপ্রধান। এই ব্যাপার দ্বিতীয়া হইতে দশমী পর্যন্ত নয় দিন স্থায়ী হয়।

প্রতিবৎসর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা ইঁহাদের প্রত্যেকের জন্য এক একটি রথ প্রস্তুত হয়। রথযাত্রার প্রথম দিবসে তিনখানি রথই সিংহদ্বারে উপস্থিত করা হয়। জগন্নাথের রথ ২৩ হাত উচ্চ, বলরামের রথ ২২ হাত উচ্চ এবং সুভদ্রার রথ ২১ হাত উচ্চ। জগন্নাথদেবের রথের ১৬ চাকা, ইহাকে নন্দীঘোষ রথ বলে। এই রথ টানিবার জন্য ষোড়শ শত বেঠিয়া (যাহারা রথ টানে) আবশ্যক হয়। বলরামের রথের ১৪ চাকা, ইহাকে তালধ্বজ রথ বলে। এই রথ টানিতে চতুৰ্দ্দশ শত বেঠিয়া আবশ্যক হয়। সুভদ্রার রথের ১২ চাকা, ইহাকে পদ্মধ্বজ রথ বলে। এই রথ টানিতে দ্বাদশ শত বেঠিয়া আবশ্যক হয়। নারিকেল ছোবড়ার রজ্জু দ্বারা রথ টানা হয়। প্রত্যেক রজ্জু প্রায় ১০০ হাত লম্বা। আজকাল বেঠিয়ার সংখ্যা অনেকাংশে কম।

সিংহদ্বারের সম্মুখ দিয়া উত্তরদিকে যে প্রশস্ত রাস্তা ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজার বাড়ী পর্যন্ত গিয়াছে, তাহাকে বড় দাণ্ড বা রথের রাস্তা বলে। রথের সময় এই রাস্তা লোকে পরিপূর্ণ হইয়া যায়। রাস্তার দুইধারে যত দালানের ছাদ আছে, তাহাও পরিপূর্ণ হইয়া যায়। এই সময় যাহাদের মন্দিরের নিকট বাড়ী আছে, তাহারা অনেক টাকা উপার্জন করে, এমন কি এক বৎসরের ভাড়া একদিনেই পাইয়া থাকে। রথ টানার অনেক পূর্ব হইতেই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব এবং পুলিশসহ পুলিশসাহেব উপস্থিত থাকেন।

বেলা ১২। ১টার সময় শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব রথে আসেন। যাঁহারা রথারোহণের সময় ঠাকুর দর্শন করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহাদের প্রাতঃকালেই রথের নিকট উপস্থিত থাকিতে হয়। প্রথমতঃ বলরাম, তৎপরে সুভদ্রাদেবী এবং অবশেষে জগন্নাথদেব রথে আসেন। ঠাকুর রথে আরোহণ করিলে সাধারণ যাত্রীরা জগন্নাথদর্শন করিবার জন্য অস্থির হইয়া পড়ে। পুলিশ শৃঙ্খলা রাখিবার জন্য তাহাদিগের গতিরোধ করে, কিন্তু শান্তিরক্ষা করা দুষ্কর হইয়া পড়ে। এইরূপে প্রায় এক ঘণ্টা কাটিয়া যায়। ইহার পর রথ চলিতে থাকে। এই সময়ে বহু কীর্তনিয়া-সম্প্রদায়ের কীর্তন হইতে থাকে। তন্মধ্যে চরণদাস বাবাজির দল প্রধান। প্রথমে বলরামের রথ, তারপর সুভদ্রাদেবীর এবং পরিশেষে জগন্নাথদেবের রথ চলিতে থাকে। "রথে তু বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে” এই বিশ্বাসের জন্য সকলে প্রাণ ভরিয়া ভক্তিসহকারে রথের উপর জগন্নাথদেবকে দর্শন করিতে থাকেন।

অত্রত্য বহুসংখ্যক আদিমবাসীরা রজ্জুবন্ধ দ্বারা জগন্নাথ ও বলরামকে রথে তুলিয়া থাকে। সুভদ্রাদেবীকে ক্রোড়ে করিয়া রথে উত্তোলন করা হয়। যে সকল লোক দ্বারা জগন্নাথ ও বলরামকে রথে উত্তোলন করা হয়, তাহাদিগকে দয়িতা বলে। দয়িতাগণ এই সময়ে সর্বেসর্বা। স্নানযাত্রা হইতে গুণ্ডিচাযাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্বাবসুবংশীয় দয়িতাদিগেরই অধিকার। বিদ্যাপতিবংশীয়েরা, যাঁহাদিগকে পতি বলে, তাঁহারা পূজাকার্য সম্পন্ন করেন।

সারাদিনে রথ গুণ্ডিচাবাড়ী আসিয়া উপস্থিত হয়। প্রথম দিন মূর্তিত্রয় যজ্ঞবেদীর নিকট সায়ংকালে উপস্থিত হন। সেই দিন প্রভুদিগকে যজ্ঞবেদীর রত্নসিংহাসনে স্থাপন করা হয়। উক্ত বেদীতে তাঁহারা ৭ দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন। এই সপ্তদিন অন্নপিষ্টকাদি দ্বারা ভোগ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে রথত্রয়ের মুখ নীলাদ্রির দিকে স্থাপন করা হয়। নবম দিবসে খুব ভোর বেলায় খেচরান্ন ভোগ দিয়া জগন্নাথকে রথারূঢ় করা হয়।

এই সপ্তদিনের মধ্যে পঞ্চমী তিথিতে "হোরা পঞ্চমী" বা "লক্ষ্মী বিজয়” নামে এক উৎসব হইয়া থাকে। জগন্নাথ মন্দির হইতে গুণ্ডিচাতে ব্রহ্মবিহার করিতে গেলে, লক্ষ্মীদেবী তিনদিনের মধ্যেও প্রভুকে প্রত্যাগমন করিতে না দেখিয়া অত্যন্ত ক্রুদ্ধা হইয়া সখিগণসহ গুণ্ডিচাবাড়ীতে গমন করেন। তথায় যাইয়া পাণ্ডাগণকে ভর্ৎসনা, প্রহার ও বন্ধন করেন। তিন চারি দিনের মধ্যে প্রভুসহ তাঁহারা মন্দিরে ফিরিবার অঙ্গীকার করিলে লক্ষ্মীদেবী তাঁহাদের বন্ধন মোচন করিয়া শ্রীমন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন।

গুঞ্জাবাড়ীতে ৯ দিন থাকিয়া দশমীতে পুনর্যাত্রা হয়। এই সময়েও অনেক যাত্রীর সমাগম হয়। ফলেরও বোধ হয় তুল্যতা আছে। শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব প্রথম দিন আসিয়া মন্দিরে প্রবেশ করেন না। দ্বিতীয় দিবসও সমস্ত জীবকে দর্শন দিবার জন্য বাহিরে রথোপরি থাকিয়া তৃতীয় দিন শেষ বেলায় অবতরণ করেন। বলরাম ও সুভদ্রা প্রথমতঃ মন্দিরে প্রবেশ করেন। তাহার পর লক্ষ্মীর আজ্ঞায় কপাট বন্ধ হয়। জগন্নাথের পক্ষে পাণ্ডারা এবং লক্ষ্মীর পক্ষে দেবদাসীরা কথোপকথন করিতে থাকেন। জগন্নাথের পক্ষ হইতে অনেক বস্ত্রালঙ্কারের প্রলোভন দেখান হইয়া থাকে, কিন্তু লক্ষ্মী দরজা উন্মুক্ত করেন না। প্রায় ৩।৪ ঘণ্টা পরে যখন জগন্নাথ অত্যন্ত অনুনয়-বিনয় করেন তখন কপাট খুলিয়া দেওয়া হয়। কোন ভক্তের ইচ্ছানুসারে এই প্রেমের লীলা হইয়া থাকে, তাহাতে আর সন্দেহ নাই।

আহা! এই রথযাত্রার সহিত গৌরাঙ্গদেবের কতই না ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল! শ্রীশ্রীচৈতন্যমহাপ্রভু প্রাতঃস্নান করিয়া আনন্দে বিহ্বল এবং ভাবে বিভোর হইয়া সমস্ত ভক্তগণসহ জগন্নাথের নিকট উপস্থিত হইতেন। প্রভুর সন্তোষের জন্য রাজা প্রতাপরুদ্র রথের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করিতেন। নানাবর্ণের বস্তু দ্বারা রথ সজ্জিত হইত, নানাবর্ণের পতাকা উড়িত তাহা এবং কত সুমধুর বাদ্যধ্বনি হইত। রথাগ্রে যে কীর্তন-পদ্ধতি দেখিতে পাই, সেই মহাপ্রভুর সৃষ্টি।

তাহার পর যখন রথ চলিতে আরম্ভ হইত, তখন লক্ষ লক্ষ লোক রথোপরি শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে এবং পদব্রজে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব ও রাজা প্রতাপরুদ্রকে দেখিবার জন্য ব্যাকুল হইত। মহাপ্রভু ভাবে বিভোর হইয়া নৃত্যগীত সংকীর্তন করিতে করিতে চলিতেন। কখনও বা ভাবে বিভোর হইয়া মূর্ছিত হইয়া পড়িতেন। তখন রাজা প্রতাপরুদ্র শ্রীগৌরাঙ্গের পা-দুখানি আপনার ক্রোড়ে রাখিয়া অতি যতনে সেবা করিতেন। রাজার নয়নসলিলে গৌরচন্দ্র, যেন পদ্ম ফুটিয়াছে, এরূপ শোভা পাইতেন। শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব অষ্টাদশ বর্ষ ব্যাপিয়া এই পুরীধামে কত আনন্দ করিয়াছিলেন। তিনি শ্রীশ্রীকৃষ্ণের অবতার বলিয়া পুরীধামে সর্বত্র প্রচারিত হইয়াছিলেন। রাজা প্রতাপরুদ্র হইতে তাঁহার প্রজা পর্যন্ত সকলের হৃদয়েই এই কথা বদ্ধমূল হইয়াছিল।

শ্রীগৌরাঙ্গদেব মন্দিরের অন্তর ও বাহির উভয়দিক অধিকার করিয়াছিলেন। মন্দিরের ভিতর গরুড়স্তম্ভের নিকট যে কুণ্ড দেখিতে পাই, তাহা মহাপ্রভুর অশ্রুজল পতন দ্বারা উৎপন্ন হইয়াছে। দেওয়ালের গায়ে যে অঙ্গুলির দাগ আছে তাহা মহাপ্রভুর অঙ্গুলিচিহ্ন। স্তম্ভের গায়ে যে ষড়ভুজ-মূর্তি অঙ্কিত দেখিতে পাওয়া যায়, তাহা শ্রীগৌরাঙ্গ সার্বভৌমকে যে মূর্তি দেখাইয়াছিলেন, সেই মূর্তি। দক্ষিণ দরজায় যে মূর্তি দেখিতে পাই তাহাও সেই ষড়ভুজ মূর্তি। মন্দিরের বহির্গাত্রেও সেই ষড়ভুজ মূর্তি দেখিতে পাই। বাস্তবিক সেই সময় শ্রীগৌরাঙ্গদেব জগন্নাথের রাজা ছিলেন। প্রতাপরুদ্র হইতে আরম্ভ করিয়া সকলেই যেন তাঁহার প্রজা ছিলেন। প্রেমই তাঁহার রাজ্য। রাজা-প্রজা সকলেই সেই প্রেম লইবার জন্য ব্যাকুল হইয়াছিল। আহা! যদি মনুষ্যজন্মই হইল এবং এই পুরীধামেই বাস করিতে হইল, তাহা হইলে সেই সময় কেন না হইল-প্রত্যক্ষ প্রেমাবতার দর্শন করিয়া জীবনকে ধন্য করিতে পারিতাম এবং সচ্চিদানন্দ পূর্ণব্রহ্মে কিরূপে মজিতে হয় শিখিয়া লইতাম।

রথ চলিতে চলিতে থামিয়া যায়, এরূপ মধ্যে মধ্যে শুনিতে পাওয়া যায়। জগন্নাথ সম্বন্ধে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়া থাকে, তাহা মিথ্যা নহে। সেই প্রেমময় ভগবানের যে কি খেলা, তাহা আমাদের ন্যায় সামান্য মানব কিরূপে বুঝিতে পারিবে? তিনি যাহাকে দয়া করিয়া বুঝান, সে-ই বুঝিতে পারে; ভক্তবৎসল হরি ভক্তের মান চিরকালই রক্ষা করিয়া থাকেন। এ সম্বন্ধে নিম্নে একটি গল্প লিখিত হইল-ইহা পাঠ করিলে পাঠক বুঝিতে পারিবেন যে, ভক্তের উপর ভগবানের কিরূপ দয়া।

বলরাম দাস নামক কোন এক ভক্ত ইন্দ্রিয়সংযম করিতে না পারায় রথযাত্রার দিন কোন বেশ্যার গৃহে গমন করেন। সেদিন যে রথযাত্রা তাহা তিনি ভুলিয়া গিয়াছেন। রথযাত্রা না দেখিতে যাওয়ার জন্য বারাঙ্গনা তাঁহাকে অত্যন্ত ভর্ৎসনা করে। তখন বলরাম দাস অপবিত্র শরীরে দৌড়াইয়া রথের উপর উঠিতে গেলেন, কিন্তু সেবকসকল তাঁহার চরিত্র মন্দ শুনিয়া রথ হইতে বহিষ্কৃত করিয়া দিলেন। বলরাম দুঃখে ও অভিমানে মর্মাহত হইয়া রথস্থান ত্যাগ করিয়া চক্রতীর্থে গমন করিলেন। সে স্থানে বালু দ্বারা তিনখানি রথ প্রস্তুত করিয়া জগন্নাথের রথযাত্রা করিতে আরম্ভ করিলেন। ভক্তের টানে ভগবান বালুকানির্মিত রথে আবির্ভূত হইলেন। এদিকে জগন্নাথের রথ চলা বন্ধ হইল-সহস্র লোক এবং হস্তী প্রভৃতি দ্বারা রথ টানা হইল, কিন্তু কিছুতেই রথ চলিল না। সকলেই হতাশ হইয়া পড়িল। রাজা প্রতাপরুদ্র জগন্নাথের নিকট ধরণা দিলেন; তখন ভগবান জগন্নাথদেব রাজা প্রতাপরুদ্রকে স্বপ্নাদেশ করিলেন যে, 'আমার প্রিয়ভক্ত বলরাম দাসকে তোমার রথের সেবকরা অপমানিত করিয়াছে, তাহাদিগকে হাতে গলায় বাঁধিয়া বলরাম দাসের নিকট উপস্থিত কর, বলরাম প্রসন্ন হইলেই রথ চলিবে।' রাজা এই স্বপ্নাদেশ পাইয়া আনন্দ-সহকারে প্রাতঃকালে সেবকদিগকে হাতে পায়ে বাঁধিয়া বলরাম দাসের নিকট উপস্থিত করিলেন। বলরাম দাস রাজার নিকট সমস্ত শ্রবণ করিয়া ভগবৎপ্রেমে বিমুগ্ধ হইলেন এবং মনে মনে চিন্তা করিতে লাগিলেন, যদি এত দয়াই না থাকিবে, তবে লোক তাঁহাকে ভক্তবৎসল কেন বলিবে? বলরামের মনে হইল, এই কয়দিন যাবৎ জগন্নাথ একেবারে অনাহারে আছেন, আমার জন্য তাঁহার কতই না কষ্ট হইয়াছে! এই ভাবিয়া বলরাম দ্রুতপদে রথের স্থানে উপস্থিত হইয়া জগদ্বন্ধুকে দর্শন করিয়া আনন্দাশ্রু বর্ষণ করিতে লাগিলেন। তাহার পর তিনি রথ ঠেলিতে আরম্ভ করিলেন, রথ পুনরায় চলিতে লাগিল এবং অনায়াসে গুণ্ডিচাবাড়ী পৌঁছিল।

উপরিউক্ত ঘটনা সেই অমৃতময় আশাপ্রদ ভগবদ্বাক্য স্মরণ করাইয়া

দেয়-

"অপি চেৎ সুদুরাচারো ভজতে মামনন্যভাক্। সাধুরেব স মন্তব্যঃ সম্যগ্যবসিতো হি সঃ।। ক্ষিপ্রং ভবতি ধর্মাত্মা শশ্বচ্ছান্তিং নিগচ্ছতি। কৌন্তেয় প্রতিজানীহি ন মে ভক্তঃ প্রণশ্যতি।”

'যদি অত্যন্ত দুরাচার ব্যক্তিও অনন্য ভজনশীল হইয়া আমাকে ভজনা করেন, তবে তিনিও সাধু বলিয়া গণ্য, যেহেতু তিনি উত্তম অধ্যবসায় করিয়াছেন এবং শীঘ্র ধর্মাত্মা ও নিত্য শান্তি প্রাপ্ত হন। হে কৌন্তেয়, আমার ভক্ত প্রণষ্ট হয় না-ইহা তুমি নিঃশঙ্কভাবে প্রতিজ্ঞা করিয়া বলিতে পার।'

পুরীতে যেরূপ শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা হইয়া থাকে, সেইরূপ ভারতের অন্যান্য স্থানেও এই উৎসব হইয়া থাকে। তবে যোগী ভক্তেরা এই দেহকেই রথ কল্পনা করিয়া থাকেন। রথ যেমন তিন তলা, মনুষ্যদেহও সেইরূপ তিন তলা-সহস্রার, হৃদয় এবং মূলাধার। উপর তলায় সহস্রদলপদ্মে শ্রীশ্রীবামনদেব অর্থাৎ জগন্নাথদেব বিরাজ করেন। বামন অবতারে ত্রিভুবন অধিকার করেন, এজন্য জগন্নাথ বামন নামে খ্যাত। যদি কোন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাধন দ্বারা এই রথে অর্থাৎ সহস্রদলে বামনদেবকে দর্শন করিতে পারেন, তাহা হইলে তাঁহাকে পুনরায় জন্মগ্রহণ করিতে হয় না। মধ্যতলা হৃদয়, এই হৃদয়ই ভগবানের লীলাক্ষেত্র। সমস্ত অবতার, দেবদেবী ও তাঁহাদের কার্য এখানে দেখিতে পাওয়া যায়। নীচের তলায় কামাদি রিপুগণ বিরাজ করে। বামনদেব রথে উঠিবামাত্র, চারিদিকে শঙ্খ ঘণ্টা বাজিতে থাকে। নীচের তলায় সিঁড়ি পড়ে। চারিদিক হইতে ভক্তমণ্ডলী আসিয়া ভিড় করিলে, কামাদি রিপুগণ পরিবার লইয়া পলায়ন করে। তখন সত্ত্ব-রজ-তমঃরূপ প্রকাণ্ড তিনগাছা কাছি রথে বাঁধিয়া টানিতে থাকে। সুখ-দুঃখময় কালচক্র ঘুরিতে ঘুরিতে ঠাকুর-মন্দিরের নিকট উপস্থিত হইলে কাছি খুলিয়া যায়।

বুদ্ধদেব সিদ্ধিলাভ করিয়া উপরোক্ত দেহতত্ত্ব তাঁহার পঞ্চ শিষ্যের নিকট বর্ণনা করিয়াছিলেন। তাঁহার নিজের শরীর রথ, তাহাতে দেবতা ও কন্দর্পের প্রকাশ এবং পরে ব্রহ্মলাভ, এই সমস্ত তাহাদিগকে প্রত্যক্ষ করাইয়াছিলেন। এই নিমিত্ত বৌদ্ধমন্দিরেও রথযাত্রা হইয়া থাকে।”

#তত্ত্বমালা # নিগমানন্দ

15/07/2026

শ্রীশ্রী ঠাকুর সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন....

আহারাদি সম্বন্ধে সমগুণসম্পন্ন ব্যক্তি যে জাতির হউক না কেন --সে মুসলমান হউক,খৃষ্টান হউক, মেথর হউক, সাত্ত্বিক হইলেই তাঁহার...
09/07/2026

আহারাদি সম্বন্ধে সমগুণসম্পন্ন ব্যক্তি যে জাতির হউক না কেন --সে মুসলমান হউক,খৃষ্টান হউক, মেথর হউক, সাত্ত্বিক হইলেই তাঁহার স্পৃষ্ট আহার্য্য গ্ৰহণ করিতে পার।

©️ শ্রীশ্রী ঠাকুর

🌿🍂🥰

ঠাকুরের কথা।
07/07/2026

ঠাকুরের কথা।

শ্রীশ্রী ঠাকুরকে নিয়ে আপনার মন্তব্য কমেন্টে লিখুন....কি ধরণের পোস্ট আমাদের থেকে প্রত্যাশা করেন?..
02/07/2026

শ্রীশ্রী ঠাকুরকে নিয়ে আপনার মন্তব্য কমেন্টে লিখুন....

কি ধরণের পোস্ট আমাদের থেকে প্রত্যাশা করেন?..

30/06/2026
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে শ্রীশ্রী ঠাকুর।
27/06/2026

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে শ্রীশ্রী ঠাকুর।

ভক্তসঙ্গ ও শ্রীশ্রীঠাকুর।🌿💕🍂
26/06/2026

ভক্তসঙ্গ ও শ্রীশ্রীঠাকুর।

🌿💕🍂

Address

রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম, চিলমারি, কুড়িগ্রাম
Chilmari
5630

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to রাজারঘাট শ্রীশ্রী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম:

Shortcuts

Share