23/05/2026
অনেকেই বলে, "নফসকে তো কন্ট্রোল করতে পারছি না, ইবাদতে স্বাদ পাচ্ছি না কেন?" এর উত্তর লুকিয়ে আছে 'রিয়াজাতুন নাফস' বা আত্মার প্রশিক্ষণের গভীর দর্শনে।
'রিয়াজাত' শব্দের মূল অর্থ হলো, কোনো কিছু 'ভেঙে ফেলা'। আমাদের নফস জন্মগতভাবেই সস্তা আনন্দ আর গুনাহের গোলামি করতে অভ্যস্ত। একে নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়াটি অনেকটা শিশুর 'দুধ ছাড়ানোর' মতো।
একটি শিশু যখন মায়ের দুধ খেতে অভ্যস্ত থাকে, সেটির অভাবেই সে ছটফট করে। কিন্তু যখন মা তাকে শক্ত খাবার বা অন্যান্য সুস্বাদু খাবারের স্বাদ চিনিয়ে দেন, তখন সে আর সেই দুধের দিকে ফিরেও তাকায় না।
নফসকেও ঠিক একইভাবে গুনাহের স্বাদ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। শুরুতে একটু ছটফটানি হবে, কিন্তু যখনই সে 'আল্লাহর ভালোবাসার' স্বাদ পেয়ে যাবে, তখন আগের সব গুনাহ তার কাছে তিতা বা বিস্বাদ মনে হবে।
আপনার হৃদয়কে একটি আয়নার সাথে তুলনা করুন। আমরা যেমন আয়নাকে আমাদের নিঃশ্বাসের ভাপ থেকে বাঁচাই যেন তা ঝাপসা না হয়, ঠিক তেমনি হৃদয়কেও কুপ্রবৃত্তির ধোঁয়া থেকে রক্ষা করতে হয়।
আপনি যখন সন্দেহজনক কাজগুলো ত্যাগ করবেন, তখন আপনার হৃদয়ের আয়নাটি পালিশ হতে থাকবে। যত বেশি পালিশ হবে, তত বেশি সেখানে পরকালের দৃশ্য স্পষ্ট হতে থাকবে।
একবার নবীজি ﷺ হযরত হারিসা (রা.)-কে তাঁর ঈমানের অবস্থা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন:
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কাছে মনে হয় আমি যেন আমার রবের 'আরশ' চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি! আমি যেন দেখছি জান্নাতিরা একে অপরের সাথে দেখা করছে আর জাহান্নামিরা আর্তনাদ করছে।"
নবীজি ﷺ তখন বলেছিলেন: "তুমি সত্যকে চিনতে পেরেছ, এখন এতে অটল থাকো। এটি এমন এক বান্দার গুণ যার অন্তরকে আল্লাহ ঈমানের নূর দিয়ে আলোকিত করেছেন।"
আপনার আধ্যাত্মিক পথ কি আজ ধুলোবালিতে ঢাকা? তবে দুটি কাজ করুন:
প্রথমত: নফসকে পাপাচার থেকে জোর করে 'দুধ ছাড়িয়ে' দিন।
দ্বিতীয়ত: নিজের আমলের ওপর 'গর্ব' না করে কেবল আল্লাহর দয়ার দিকে তাকিয়ে কলবকে পরিষ্কার রাখুন।
যখন বান্দা ও রবের মাঝখানের সব পর্দা সরে যাবে, তখন আপনি আপনার 'অন্তরের চোখ' দিয়ে সেই জগত অনুভব করতে পারবেন, যা সাধারণ মানুষ কখনও কল্পনাও করতে পারে না।
আল্লাহ আমাদের নফসকে পবিত্র করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের হৃদয়ে আল্লাহর মহব্বতের মিষ্টতা দান করুন। আমিন
তথ্যসূত্র: আদাবুন নফস --- হাকিম তিরমিযী রহ.