28/05/2026
সনাতন ধর্মাবলম্বী অনেক ছেলেমেয়েই পুজো আসলে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাদ্রব্য সেবন করে। সারাবছর তো খাচ্ছেই,পূজা আসলে তা বেড়ে যায়। গর্বের সাথে আনন্দের সাথে তারা এই পাপ কর্ম টি করে। যদি তারা শাস্ত্র পড়তো আজকে কি এমন অবস্থা হতো? পুজোতে নতুন জামা না কিনে দিয়ে ধর্মীয় গ্রন্থ কিনে দিন এবং পারিবারিক ভাবে আলোচনা করুন।
(ঋগ্বেদ ৮/২১/১৪ )
ভাবানুবাদ - তোমার নেশাকারী সঙ্গী/বন্ধু যদি সবচেয়ে বিদ্বান বা ধনীও হয়, তারপরও বজ্রপাততূল্য এবং অবশ্য পরিত্যজ্য।
(মনু ১১/৯৪)
-নিশ্চয়ই সুরা বা মদ অন্নের মল আর মলকে পাপ বলা হয়, এই জন্য দ্বিজরা কদাপি মদ্য পান করবে না।
(মনু ১১/৯৬)
-মাদক দ্রব্য, মাংস, মদিরা তথা দ্রাক্ষা রস যক্ষ, রাক্ষস এবং পিশাচের ভক্ষ্য | দেবতার হবি ভক্ষণকারী ব্রাহ্মণের এসব কদাপি সেবনযোগ্য নয়।
(মনু ১১/৯৭)
-মদ্য পান করে উৎপন্ন হওয়া ব্রাহ্মণ অপবিত্র স্থানে পতিত হয় অথবা বেদবাক্য অশুদ্ধ বলবে অথবা অন্য কোন নিষিদ্ধ কর্ম করবে। এই কারণে মদ্য পান করা উচিত নয়।
(মনু ১১/৯১)
-দ্বিজ অজ্ঞান দ্বারা সুরা (মদ্য) পান করলে, অগ্নির সমান তপ্ত মদ্য (সুরা) পান করবে তাহাতে তাহার দেহ দগ্ধ হবার পর সেই মদ্যপানের পাপ নষ্ট হয় অর্থাৎ দ্বিজ অজ্ঞান দ্বারা মদ্য পান করলে তার প্রায়শ্চিত্তের জন্য অগ্নির সমান গরম মদ্য পান করবে, তখন তিনি সেই মদ্যপানরূপ পাপ থেকে মুক্ত হন।
ঋগ্বেদ ১০/৫/৬)
অর্থাৎ মেধাবী আপ্ত ঋষিগণ সপ্ত মর্যাদাকে নিজেদের জীবনের সীমা তৈরী করেছেন, তাহার যেন লঙ্ঘন না করা হয় অর্থাৎ তাহাতে যেন কেউ না পৌঁছে।
নিরুক্তে ৬।২৭ অনুসারে এ সীমার প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে-
চুরি, গুরুপত্নির সাথে সম্ভোগ, ব্রহ্মহত্যা, গর্ভপাত, সুরাপান, পাপকর্মের পুনরাবৃত্তি এবং পাপ করেও মিথ্যা বলা- পাপ কে লুকানো। এর মধ্যে একটিতেও যে গমণ করে- নিজের মধ্যে আরোপিত করে, সে পাপী হয়।
পরম বেদবিদ শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষাদান
শ্রীকৃষ্ণ জুয়াখেলা, পাশাখেলা অত্যন্ত অপছন্দ করতেন। মহাভারতের বনপর্বের ১৩ নং অধ্যায়ে আমরা দেখতে পাই তিনি যুধিষ্ঠিরদের পাশা খেলার খবর পেয়ে অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং বলেন তিনি থাকলে কখনোই এ অধর্ম সংঘটিত হতে দিতেন না। তিনি এ সম্বন্ধে পবিত্র বেদের সুপ্রাচীন নির্দেশনাকেই আবার স্মরণ করে বলেন-
স্ত্রিয়োঽক্ষা মৃগয়া পাতম্ এতত কামসমুত্থিতম্।
ব্যসনং চতুষ্টয়ং পরোক্তং রাজন ভরশ্যতে স্রিয়ঃ।।
তত্র সর্বত্র বক্তব্যং মন্যন্তে শাস্ত্রকোবিদাঃ।
বিশেষতশ চ বক্তব্যং দ্যুতে পশ্যন্তি তদ্বিদঃ।।
(বনপর্ব, ১৩.৭,৮)
অবৈধ স্ত্রী সংসর্গ, পাশাখেলা, মৃগয়া বা পশু শিকার এবং মদ্যপান এই চার হলো কাম হতে উদ্ভূত চার দূর্গুণ। এরা মানুষকে উন্নতির পথ থেকে বঞ্চিত করে। শাস্ত্রজ্ঞরা এই বলেন যে দূর্গুণীরাই এসব করে, যারা দ্যূতক্রীড়ায় আকর্ষিত তারাও এর খারাপ দিক জ্ঞাত থাকে।