29/06/2026
🌻দোয়া কবুলের গল্প 🌻
আমি ৩১৩ বার দুরুদ ইব্রাহিম পাঠ করলাম, আর যা অসম্ভব ছিল তা সম্ভব হয়ে গেল।
আসসালামু আলাইকুম বোন।
আমার এক সমস্যা ছিল যেটা “আইলিড ডার্মাটাইটিস” নামে পরিচিত, প্রায় ৩ বছর ধরে। অনেক ওষুধ, ট্যাবলেট আর ক্রিম ব্যবহার করেছি। কিছু ক্রিম খুবই দামী, কিন্তু টিউব খুব ছোট। সবকিছু ব্যবহার করেও কোন উপকার পাইনি। বরং আমার চোখের চারপাশ কালো হয়ে গিয়েছিল, অনেকটা ডার্ক সার্কেলের মত।
অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করতো, “তোমার চোখে কী হয়েছে? এত কালো কেন? তুমি কি দেরি করে ঘুমাও, নাকি সব সময় ফোনে থাকো?” কেউ কেউ আমাকে চিনতেই পারত না। এজন্য অনেক সময় আমি কারো বাসায় যেতাম না, কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম না। নিজের চেহারাই চিনতে পারতাম না, বয়সের চেয়েও বেশি বয়স্ক লাগতো।
অনেক হোম রেমেডি, ম্যাসাজ আর ডায়েট প্ল্যান ট্রাই করেছি, কিছুই কাজ করেনি। মুখ ধোয়া বা গোসল করলেই অবস্থা আরও খারাপ হতো — চোখে চুলকানি, জ্বালাপোড়া আর লাল হয়ে যেত। এই সময়গুলোতে আমি ইসতেগফার আর দরুদ পাঠ করতাম।
আলহামদুলিল্লাহ, জীবন মোটামুটি ভালো চলছিল, কিন্তু ত্বকের সমস্যা একই রকম রয়ে গেল।
ইউটিউবে সালাওয়াত ও ইসতেগফারের অলৌকিকতা নিয়ে অনেক ভিডিও দেখেছি। সেখানে বলা হচ্ছিল যে, দুরুদ ইব্রাহিম পড়লে অনেক সমস্যা দূর হয়। আমি ভেবেছিলাম, এটা অনেক লম্বা, এতবার পড়া কঠিন হবে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম, ৩১৩ বার পড়লে এর অনেক গোপন বরকত আছে।
১ জুলাই থেকে আমি দুরুদ ইব্রাহিম পড়া শুরু করলাম। প্রথম দিন ১০০ বার, পরদিন ২০০ বার, আর তৃতীয় দিন আমি ৩১৩ বার পড়া শেষ করলাম। আলহামদুলিল্লাহ! কয়েক দিনের মধ্যেই আমি বুঝতে পারলাম চোখে চুলকানি নেই, জ্বালাপোড়াও নেই। মুখ ধোওয়া বা গোসল করার পর আর ভয় লাগছে না। আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আরও একটি সমস্যা ছিল, আমি আমার স্বামীকে দেখলে অকারণে এক ধরনের বিরক্তি বা ঘৃণা অনুভব করতাম। অথচ তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু ও সদয় মানুষ। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম, “ইয়া আল্লাহ, আমার অন্তর থেকে এই ঘৃণা দূর করে দাও, যেন আমি আবার আমার স্বামীকে ভালোবাসতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ! কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আমার স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ফিরে আসে।
আরেকটি সমস্যা ছিল — হায়েজ চলাকালীন ২য় বা ৩য় দিনে অনেক ব্যথা হতো। কিন্তু এবার কোনো ব্যথা অনুভব করিনি। আলহামদুলিল্লাহ! দুরুদ ইব্রাহিম একটি অলৌকিক চাবি, যা বরকতের সব বন্ধ দরজা খুলে দেয়। আমি এই সালাওয়াত কখনোই ছাড়বো না ইন শা আল্লাহ্।
📌 বিঃদ্রঃ ৩১৩ বার পড়তে হবে এমন কথা না। আপনি আপনার মত সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারেন ইন শা আল্লাহ্। হয়তো উনার এতবার পড়ার পর আল্লাহ্ সহজ করে দিয়েছে। নির্ধারিত সংখ্যায় পড়তেই হবে এমন ভেবে আমল করা উচিত না। নিয়ত খাঁটি রাখবেন। নিয়ত হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।