08/01/2026
#হরিবোল আজ আমরা শ্রবণ মহারাজ পরীক্ষিতের জীবন দর্শন। আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে:
অভিশাপগ্রস্থ মহারাজ পরীক্ষিৎ:
জলের সন্ধানে বনে পরীক্ষিৎ মহারাজ শৈমিক ঋষির আশ্রমে পদার্পণ করেন। শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে, শৈমিক ঋষি ছিলেন একজন মহান যোগী, তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাবে সমস্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করতেন। ধ্যানাবস্থায় তার বাহ্যজ্ঞান ছিল না। সেসময় মহারাজ পরীক্ষিৎ তার কাছে পানীয় জল চাইলেন। বৈদিক প্রথা অনুযায়ী কোন অতিথি গৃহে পদার্পণ করলে তাকে খাবার জল প্রদান করতে হয়। শৈমিক ঋষি সমাধি মগ্ন থাকায় মহারাজ পরীক্ষিৎ কোনো সমাদর পেলেন না। মহারাজ পরীক্ষিৎ যেহেতু একজন মহান ভক্ত ছিলেন তাই তার পক্ষে তা উপলব্ধি করা ছিল সহজতর। কিন্তু যেহেতু পরমেশ্বর ভগবান কলিযুগ প্রারম্ভ করতে চাইলেন তাই বহু উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তিনি একটি লীলা প্রকাশ করতে চাইলেন। কৃষ্ণ একদিকে কলিযুগ প্রারম্ভ করতে চাইলেন এবং অন্যদিকে তিনি যুগাবতার গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুরূপে আবির্ভূত হতে চাইলেন। সূত গোস্বামী শ্রীমদ্ভাগবতে বলেছেন যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধানের পর তিনি নিজেকে ত্রুটিমুক্ত অমল পুরাণ শ্রীমদ্ভাগবতরূপে আবির্ভাব ঘটান। কৃষ্ণের অধ্যক্ষতায় এই জগতে এই অমূল্য শ্রীমদ্ভাগবত অবতরণ করেছে। এই শ্রীমদ্ভাগবতের আবির্ভাব ঘটেছে মূলত মহারাজ পরীক্ষিতের মাধ্যমে। যোগমায়ার মাধ্যমে মহারাজ পরীক্ষিতের বুদ্ধিমত্তা হল অন্তর্হিত। আমাদের সকল স্মৃতি, জ্ঞান ও ভুলে যাওয়ার ক্ষমতাও কৃষ্ণ দিয়েছেন। তাই কৃষ্ণের ইচ্ছায় মায়ার আবেশে মহারাজ পরীক্ষিৎ একটি মৃত সৰ্প নিয়ে শৈমিক ঋষির গলায় পরিয়ে দিলেন।
🏵️ শ্রীমদ্ভাগবতের আগমনঃ———
শৈমিক ঋষির শৃঙ্গী নামক এক বিখ্যাত পুত্র ছিল । ব্রাহ্মণপুত্র শৃঙ্গির ছিল অসাধারণ শক্তি, কিন্তু তিনি ব্রাহ্মণগুণসম্পন্ন ছিলেন না। তাই তিনি রাজাকে অভিশাপ দিলেন যে, ৭ দিন পর তক্ষক নামক একটি সর্পপাখি কর্তৃক তিনি দংশিত হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন। যখন মহারাজ পরীক্ষিৎ সেই বাণী শ্রবণ করলেন তখন তিনি উপলব্ধি করলেন এটি ভগবানের ইচ্ছা। তিনি তার সাম্রাজ্য, স্ত্রী-পুত্র, ঐশ্বর্যের প্রতি আকর্ষিত ছিলেন না, তিনি শুধুমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। তিনি জীবনের শেষ ৭ দিন যা করলেন সেটিই মানব ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি গঙ্গার তীরে গমন করে সমস্ত ঋষিদের ভগবান কৃষ্ণ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। সেই স্থানটি এখনো রয়েছে। এটি ঋষিকেশ ও দিল্লির মধ্যবর্তী স্থান মিরাটের সন্নিকটবর্তী।সেই অপ্রাকৃত স্থানটির নাম সুখদা। এই স্থানে মহারাজ পরীক্ষিৎ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি ৭ দিন যাবৎ আহার নিদ্রা ত্যাগ করে সর্বদাই কৃষ্ণ লীলা স্মরণ করবেন। তখন সেখানে সমস্ত মহান ঋষিগণের আগমন ঘটল। নারদ মুনি, পরাশর মুনি, ভরদ্বাজ মুনি, কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস, গৌতম ঋষি সহ সকলে মিলে স্থির করছিলেন কে মহারাজ পরীক্ষিৎকে কৃষ্ণকথা শ্রবণ করাবেন? সেই সময় ১৬ বছর বয়স্ক শুকদেব গোস্বামী সভাস্থলে প্রবেশ করলেন। উল্লেখ্য, অলৌকিকভাবে শুকদেব গোস্বামী ১২ বছর মাতৃগর্ভে ছিলেন। তিনি একজন ব্রাহ্মণ, মুক্ত আত্মা। পরমেশ্বর ভগবানের মহিমা শ্রবণ করে তিনি বেরিয়ে এলেন এবং বেদব্যাস তাকে শ্রীমদ্ভাগবত শিক্ষা প্রদান করেন। তাই পরম্পরাক্রমে শুকদেব গোস্বামী ছিলেন উপযুক্ত ব্যক্তি। সভাস্থ সকলে শুকদেব গোস্বামীকে ব্যাসাসন প্রদান করেন এবং মহারাজ পরীক্ষিৎ তাকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন। এভাবেই মহান শাস্ত্রের আগমন ঘটে।
🏵️ মহারাজ পরীক্ষিতের শরণাগতি:———
মহারাজ পরীক্ষিৎ মৃত্যুবরণের অভিশাপ গ্রন্থ হয়েছিলেন। তাহলে পরীক্ষিতের মৃত্যু পরবর্তী কে রাজ্যশাসন করবে? তিনি তখনো কোনো উত্তরসুরী তৈরি করেননি। সাধারণত এই জগতে কোনো মানুষ ৫০ বা ৬০ বছর বয়সে পৌছানোর পর তার উত্তরাসুরী তৈরি করে তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। কিন্তু মহারাজ পরীক্ষিৎ ছিলেন তখনও একজন যুবক। যখন আমরা যুবক বয়সে উপনীত হই তখন আমরা জড় সুখ ভোগে মত্ত থাকি। কিন্তু পরীক্ষিৎ মহারাজের সামনে মৃত্যুর খড়গ ঝুলছিল, তাও সাধারণ কোনো মৃত্যু নয়। তক্ষকের দংশন অচিন্তনীয় বেদনাদায়ক। যখন সেই সর্প কাউকে দংশন করবে, তার বিষ এতই উত্তপ্ত ও ভয়ংকর যে দংশিত ব্যক্তির দেহে আগুন লেগে যায়। তাই আমাদের কি এই ধরনের দুঃখ উপনীত হতে হয়েছে? কিন্তু আমরা কারো দ্বারা সামান্যতম নিপিড়িত হলেই অন্যকে দোষারোপ করা শুরু করি। এটি কেন? ওটি কেন? এটি কী সঠিক? এটি সুবিচার নয়। কেন আমার মত ভালো মানুষের কপালে এত দুঃখ? কেন আমি এত দুর্দশাগ্রস্থ হচ্ছি? ভগবান আমাকে কৃপা করছেন না। কিন্তু মহারাজ পরীক্ষিৎ শুধুমাত্র বলেছেন, “কৃষ্ণ! তোমার যা ইচ্ছা তাই কর।” ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন, তুমি আমাকে মারতে পার, আবার রক্ষাও করতে পার, তোমার যা ইচ্ছা তা করতে পার। আমি তোমার সেবক। সেবক কখনো তার প্রভুর দোষারোপ করে না। সেবক সর্বদাই তার প্রভুর নির্দেশ পালনে রত থাকে। যে দেহেই হোক না কেন কৃষ্ণসেবা করলে, কৃষ্ণ সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করবেন, আমাদের ভয়ের কোনো কারণ থাকবে না। তাই বলা হয়েছে, “ভজ হুরে মন শ্রীনন্দনন্দন অভয়চরণারবিন্দ রে।” ভক্তগণ সর্বদাই ভয়শূন্য কেননা তারা কৃষ্ণকৃপা লাভ করেন। তাই মহারাজ পরীক্ষিৎ অভিশাপের কথা শুনে উদ্বিগ্ন না হয়ে শুকদেব গোস্বামীকে পাদপদ্মে আশ্রয় নিয়ে বলেছিলেন- “আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। কৃষ্ণ আমাদের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আমি এখন কৃষ্ণ মহিমা শ্রবণ-কীর্তনের জন্য আপনার কাছে উপনিত হয়েছি।” সমগ্র শাস্ত্র অনুসারে আমাদের সর্বশ্রেষ্ট সম্পদ কোনটি? এটি হল সেই উপলব্ধি- সর্বদাই কৃষ্ণ স্মরণ কর, কখনো কৃষ্ণকে ভুলে যেও না। কৃষ্ণ সেবা এবং কৃষ্ণ ভক্তদের সঙ্গই হল আমাদের সর্বশ্রেষ্ট সম্পদ। বাকি সবকিছুই হল অস্থায়ী। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন ‘কৃষ্ণ ছাড়া এই জগতের সবকিছুই মায়া।’ তাই মহারাজ পরীক্ষিৎ গঙ্গাতটে গিয়ে কৃষ্ণভক্তদের সান্নিধ্যে কৃষ্ণের নাম, গুণ ও লীলা শিক্ষা লাভ করে সমগ্র বিশ্বকে শিখিয়েছেন কিভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ॥
ীক্ষিৎ_মহারাজ কি?-- জয়। 🙏
ান_শ্রীকৃষ্ণ কি?-- জয়। 🙏
#হরিবোল #হরে_কৃষ্ণ ্নাথ 🙏