27/08/2026
একদিন তারাপীঠের মন্দিরে মা তারা'কে ভোগ নিবেদন করার সময় এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। মন্দিরের নিয়ম অনুযায়ী, পুরোহিতরা পুজো ও ভোগ নিবেদন শেষ করার পরেই দর্শনার্থীদের প্রসাদ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই দিন মন্দিরের রান্নাঘর থেকে ভোগ নিয়ে সোজা শ্মশানের দিকে ছুটলেন বামাক্ষ্যাপা ঠাকুর ।
সেখানে বসে থাকা এক পাগল কুকুরকে তিনি পরম আদরে সেই ভোগের থালা থেকে খাওয়াতে লাগলেন।
এই দৃশ্য দেখে মন্দিরের সেবায়েত ও পুরোহিতরা রেগে আগুন। তাঁরা মন্দিরের নিয়মানুবর্তিতা ভঙ্গের অভিযোগ তুললেন এবং বামাক্ষ্যাপার ওপর ক্ষিপ্ত হলেন। তাঁদের দাবি ছিল, মা-কে নিবেদন করার আগে কোনো জীবকে এই ভোগ দেওয়া পাপ।
পুরোহিতরা তাঁকে জোর করে মন্দিরে ফিরিয়ে আনলেন এবং মা তারার মূর্তির সামনে বসিয়ে রাখলেন।
ঠিক সেই সময় মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ ছিল। বামাক্ষ্যাপা মা তারার মূর্তির দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন। ঠিক যেন একটি ছোট শিশু তার মায়ের কাছে বিচার চাইছে। তিনি মাকে বললেন, "মা, ওরা আমাকে বকছে কেন? আমি তো তোমাকেই ভোগ দিয়েছি! তুমি তো ওই কুকুরের মধ্যেও আছো, তবে কি তুমি নিজে আজ অভুক্ত থাকবে?"
বামাক্ষ্যাপা এই আর্তনাদ ও সরল ভক্তি দেখে হঠাৎই মন্দিরের পুরোহিতরা এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন। গর্ভগৃহের ভেতরে মা তারা স্বয়ং যেন জীবন্ত হয়ে উঠলেন! পুরোহিতরা চমকে দেখলেন, মা তারার ঠোঁটের কোণে লেগে আছে ঠিক সেই ভোগের কণা, যা বামাক্ষ্যাপা সেই কুকুরটিকে খাইয়েছিলেন।
মা তারার এই অলৌকিক লীলা দেখে পুরোহিতদের অহংকার ও ভুল ভেঙে গেল। তাঁরা বুঝতে পারলেন, বামাক্ষ্যাপা কোনো সাধারণ পাগল নন। তিনি এমন এক উচ্চ স্তরের সাধক, যিনি সমস্ত জীবের মধ্যেই মা তারার উপস্থিতি উপলব্ধি করতেন। সেই দিন থেকে সবাই তাঁকে ভক্তিভরে 'বামাক্ষ্যাপা' বা 'তারা মায়ের পাগল সন্তান' ক্ষ্যাপা ঠাকুর বলে ডাকতে শুরু করেন। -সংগ্রহীত
#বামাক্ষ্যাপা #বামাক্ষ্যাপাঠাকুর #মাতারা #তারাপীঠ #তারাপীঠধাম #বামাক্ষ্যাপার_লীলা #তারা_মায়ের_লীলা #জয়মাতারা #জয়বামাক্ষ্যাপা #আধ্যাত্মিকতা #সনাতনধর্ম #ভক্তি #অলৌকিক_লীলা #মহাশ্মশান