13/09/2022
স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের রথের সারথি হয়ে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন 🙏
রথটিতে চারটি ঘোরা ছিলো। ঘোরা চারটি প্রতিনিয়ত ছুটে বেরাচ্ছিলো আর রথটিও সামনের দিকে এগিয়ে চলছিল।
১৮ দিন ধরে যুদ্ধ চললো। অবশেষে ১৮ দিন পর এই যুদ্ধ সমাপ্ত হলো.....
যুদ্ধ সমাপ্ত হবার পর শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন রথ থেকে নেমে গেলো...
তারা দুইজন নামা মাত্র রথটি আগুনে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে গেলো..
অর্জুন তখন অবাক হয়ে ভাবলো এই আগুন আসলো কোথা থেকে। আর ১৮ দিন ধরে যুদ্ধ করার পরেও রথটির কোনো অংশের ক্ষতি হয়নি তাহলে তারা নামার পরেই কেনো রথটি পুড়ে গেলো..!!
এই কথা শ্রীকৃষ্ণকে অর্জুন জিঙ্গাসা করলো...?
তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হাস্যমুখে অর্জুনকে বললো,
হে অর্জুন- যেই রথ দ্বারা আমার যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় সেই রথ তো এভাবেই পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায়।
তখন অর্জুন বললো, হে কৃষ্ণ আপনি আগেও কিছুবার রথ থেকে নেমেছেন।
তখন কেনো রথটি পুড়লো না...??
তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন,তখন যে আমি রথের মধ্যে পবনকে(বাতাস) রেখে গিয়েছিলাম।
এই পবন থাকার ফলে রথটির কোনো ক্ষতি হয়নি..
কিন্তু এখন যে আমার যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।আমি পবনকে সঙ্গে নিয়ে নেমে গেছি
তাই রথটি পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে গেলো.ঠিক তেমনি আমাদের এই দেহটি হচ্ছে কুরুক্ষেত্রের সেই রথটি।এই দেহ রথটিও ঘোড়ার মতো কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহে প্রতিনিয়ত ছুটে বেরাচ্ছে..
আর সেই পরমপুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণই আমাদের দেহে আত্মারুপে বিরাজ করছেন সারথি হয়ে..
আর আমরাও প্রতিদিন এই দেহ রথটির মাধ্যমে সংসারে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের মতো বিভিন্ন যুদ্ধ করে যাচ্ছি..
যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি তখন আমাদের দেহ রথে কোনো আত্মা থাকে না।কিন্তু আমরা ঘুমন্ত অবস্থাতেই নিশ্বাস নেই। এই শ্বাস হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রেখে যাওয়া সেই পবন।
যেদিন আমাদের এই সংসার কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে সেদিন আত্মারুপী দেহ রথের সারথি পবনকে সঙ্গে নিয়ে নেমে যাবে।সেদিন আমাদের এই সাধের সুসজ্জিত দেহ রথটিও আগুনে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে।।
তাই আমাদের সকলের উচিত এই তুচ্ছ দেহের মায়া ছেড়ে ভগবানকে স্বরন করা..তার সেবা করা..এই সংসার যুদ্ধটা সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারলে আমাদের মানব জীবন সার্থক হবে।
চলুন আমরা সকলে এই জগতের সব মায়াকে পর করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে আপন করে নেই...তার সরনাপন্ন হই।
জয় শ্রীকৃষ্ণ 🙏