19/05/2026
#দক্ষিনেশ্বরের_রামকৃষ্ণ_ও_বরিশালের_সোনা_ঠাকুর 🌺
অবিভক্ত বাংলার চন্দ্রদ্বীপস্থ বাজার রোডের অতি প্রাচীন একটি মন্দির শ্রী শ্রী বড় কালী মাতার মন্দির যা বর্তমানে সকলের কাছে সোনা ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী কালী মাতার মন্দির/ বড় কালীবাড়ি নামে পরিচিত। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল খাতা কলমে কোথাও পাওয়া যায়নি। সোনা ঠাকুরের পরিবার এই মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন জমিদারি আমল থেকেই। বংশপরম্পরায় ক্রমে সোনা ঠাকুর শ্রী শ্রী বড় কালী মাতার সেবা পুজার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, শুরু হয় তাঁর সাধন জীবন, মায়ের নাম গানে বিভোর থাকতেন অধিকাংশ সময়, এমনকি মায়ের নামগান করতে করতে তাঁর বস্ত্রজ্ঞানও থাকতো না, সাধন জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি কালীসিদ্ধ হন এবং সেই থেকেই ক্রমে লোকমুখে মন্দিরটি পরিচিত হয় সোনা ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী কালী মাতার মন্দির নামে। সোনা ঠাকুরের দেহান্তে বর্তমানে তাঁর ভগ্নিকুলের বংশধরেরা শ্রী শ্রী বড় কালী মাতার সেবায় নিয়োজিত৷
একবার বরিশালের অন্যতম ব্যাক্তিত্ব মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত রোগমুক্তির জন্য দক্ষিণেশ্বরে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কাছে যান। তখন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব অশ্বিনী কুমার দত্তকে বলেন, তুমি বরিশাল থেকে আমার কাছে এসেছ কেন? বরিশালে সোনাই আছে তো, তুমি সোনাই এর কাছে যাও, সোনাই মাকে বলে দেবে ; মা সব ঠিক করে দেবেন। সিদ্ধিলাভের পর মা তো নিজেই সোনাইকে বলেছেন কেউ যদি মাকে শুদ্ধ বস্ত্রে ফুল বেলপাতা দিয়ে অঞ্জলি দিয়ে মনপ্রাণ দিয়ে ডাকে তবে নাকি মা সাড়া দেন, তুমি বাপু সোনাইয়ের কাছে ওখানে গিয়ে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দাও, দেখবে ভালো হয়ে গেছো। ঠিক সত্যিই অশ্বিনী কুমার দত্ত বরিশাল ফিরে বড় কালীবাড়িতে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দিলে তাঁর রোগমুক্তি হয়। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ সোনা ঠাকুরকে ভালোবেসে সোনাই বলে ডাকতেন। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই বরিশাল বড় কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠিত ছিলো। ঠাকুর কোনোদিন স্থুলদেহে বরিশালে আসেননি বা সোনা ঠাকুরের সাথে সামনাসামনি দেখাও করেননি, তবে সোনা ঠাকুরের সাথে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের দিব্যভাবে সংযোগ ছিলো।
~শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত।
দুই মহাসাধকের একজনও জীবদ্দশায় নেই কিন্তু রয়ে গেছে তাঁদের সাধন জীবনের মহিমা ও তাঁদের আরাধ্যা দেবী যিনি সদা সর্বদা কৃপাবর্ষন করে চলেছেন সকলের ওপর।🌺🙏
শ্রী শ্রী কালী মাতার মন্দির বাজার রোড বরিশাল।🌺