18/05/2026
কুরবানী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে এর নির্দেশ, নিয়ম ও ফজিলত বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনের আয়াত
সূরা আল-কাউসার (১০৮:২): "অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানী করুন।"
সূরা আল-হাজ্ব (২২:৩৭): "আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর (কুরবানীর পশুর) গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের মনের তাকওয়া (ভীতি)।"
সূরা আল-হাজ্ব (২২:৩৪): "আর আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানীর নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু যবাই করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে।"
সূরা আস- সাফফাত (৩৭:১০৭): "আর আমি (আল্লাহ) তাকে (ইব্রাহীমকে) এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে মুক্ত করলাম।"
সহীহ হাদীস
সহীহ বুখারী ও মুসলিম: হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে সাদা-কালো রঙের দুটি শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানী করেছেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলেছেন এবং নিজ পায়ের দ্বারা সেগুলোর পার্শ্বদেশ চেপে ধরেছেন।
সহীহ বুখারী (হাদিস নং ৯৫৫): হযরত জুনদুব বিন সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পূর্বে কুরবানী করে, সে যেন নিজের জন্য তা করল (অর্থাৎ তা কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে না)। আর যে ব্যক্তি নামাজের পরে কুরবানী করে, সে তার কুরবানী পূর্ণ করল এবং মুসলমানদের আদর্শ অনুসরণ করল।"
সুনানে ইবনে মাজাহ: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কুরবানীর দিন আদম সন্তানের কাছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)।"
মুসনাদে আহমাদ: হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! কুরবানী কী? তিনি বললেন, এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আ.)-এর সুন্নত।"