11/12/2025
অনেকে বলছে জামায়াত একজন হিন্দুকে এমপি প্রার্থী বানিয়েছে। তারা কিভাবে ইসলাম কায়েম করবে"!
তাদেরকে অনুরোধ করবো লিখাটা ভালো করে পড়ার জন্য।
☞ বিস্তারিত পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো-
☞ ইসলামী শাসনব্যবস্থায় একাধিক অঞ্চলে অমুসলিম শাসক, রাজা, প্রধান গভর্নর-সদৃশ স্থানীয় নেতা নবী,রাসূল,সাহাবাদের আওতায় দায়িত্ব পালন করেছে।
এগুলোকে বলা হতো “মু’আহিদ, জিম্মি, প্রটেক্টেড রুলার”—যারা মুসলিম রাষ্ট্রের সামগ্রিক সার্বভৌমত্ব মেনে নিজের অঞ্চল স্থানীয়ভাবে পরিচালনা করত।
◑ নবী মুহাম্মদ (সঃ)এর সময়ে অমুসলিম শাসক ছিলো
(নাজরান অঞ্চলের খ্রিস্টান নেতারা
দক্ষিণ আরবের নাজরানে খ্রিস্টানরা নিজেদের প্রধাণ নেতৃত্বে থাকত।
তারা নবী সাঃ এর সাথে শান্তি চুক্তি করে, এবং তাদের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা বজায় রাখে।
তারা মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব মানত কিন্তু নিজেরাই শাসন চালাত।
◑ বাহরাইনের হুজা বনি আবদুল কায়েস – খ্রিস্টান গভর্নর আল-মুনযির (বংশগত শাসন)
নবী সঃ তাঁকে তাঁরই অঞ্চলের শাসক হিসেবে বহাল রাখেন।
প্রথমে তিনি খ্রিস্টান ছিলেন; পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।
কিন্তু ইসলাম গ্রহণের আগেই তিনি একজন অমুসলিম মিত্র শাসক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।
◑ খলিফা আবু বকর (রা) ও উমর (রা)–এর শাসনামল
জেরুজালেম – খ্রিস্টান প্যাট্রিয়ার্ক সফ্রোনিয়াস
উমর (রা) শহরের সার্বিক নেতৃত্ব নিলেও
ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা খ্রিস্টান প্রধান সফ্রোনিয়াসের অধীনেই থাকল।
◑ মিসর – কপটিক খ্রিস্টান প্রশাসন।
মুসলিম বিজয়ের পর স্থানীয় কপটিক খ্রিস্টান নেতারা অনেক প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল থাকেন।
◑ খলিফা উসমান (রা) ও আলী (রা)-এর সময়ে
অনেক বড় অঞ্চলে স্থানীয় অমুসলিম প্রধানরা
আর্মেনিয়া (Armenia) – খ্রিস্টান রাজা থিওডোরস ও তার উত্তরসূরি।
মুসলিম রাষ্ট্রকে কর দিত
নিজ ধর্ম, সামরিক কাঠামো, অভ্যন্তরীণ শাসন বজায় রেখেই শাসক ছিল।
তারা “স্বায়ত্তশাসিত জিম্মি রাজা” হিসেবে বিবেচিত।
◑ উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলে
ইসলামী সাম্রাজ্যে নিয়মিত দেখা যেত—
নুবিয়া (Sudan) – খ্রিস্টান রাজারা
“বাক্ত” নামে চুক্তি ছিল
শত শত বছর মুসলিম সাম্রাজ্যের অধীনে কর দিত
কিন্তু নিজেরাই খ্রিস্টান রাজা হিসেবে শাসন করত।
◑ সিন্ধুর হিন্দু প্রধানরা (মুহাম্মদ বিন কাসিমের পরে)
বহু স্থানীয় হিন্দু প্রধান প্রশাসনিক পদে বহাল ছিল
সামরিক নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে থাকলেও স্থানীয় শাসন তারা চালাত।
◑ স্পেনে খ্রিস্টান কাউন্টরা (ফ্রন্টিয়ার জোনে)
মুসলিম আমিরদের অধীনে খ্রিস্টান কাউন্টরা স্থানীয় প্রশাসন চালাত
কর দিত, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্থানীয় আইন তারাই পরিচালনা করছিল।
কেন ইসলামি শাসনে অমুসলিম শাসক থাকতে পারত?
কারণ ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল নীতি ছিল:
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত রাখা
স্থানীয় জনগণের রীতি-নীতি অক্ষুণ্ণ রাখা
মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব মানলে শাসন পরিবর্তন না করা
যুদ্ধ এড়িয়ে শান্তি ও কর চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া
ইসলামি শাসনামল হওয়া সত্বেও অমুসলিমদের রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ ছিলো। অথচ আমাদের দেশের মূর্খরা পড়ালেখা ছাড়ায় ধর্মীয় বয়ান শুনায় মানুষকে! আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত দান করুক।